সিংহল দ্বীপএর গপ্পো ( পর্ব #২) # Sri Lanka হাতীদের এতিমখানা ,চিড়িয়া খানা দর্শন…

#সিকিম ঘুরে আসলাম (১৯.১২.১৮ ঢাকা এসেছি) আমি তেমন ভালো লিখতে পারিনা তাও চেষ্টা করছি…
#সিকিম ঘুরে আসলাম (১৯.১২.১৮ ঢাকা এসেছি) আমি তেমন ভালো লিখতে পারিনা তাও চেষ্টা করছি…
December 21, 2018
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় ছোট্ট একটি দ্বীপের নাম নিঝুম দ্বীপ। বঙ্গোপসাগরের কোলে উত্তর ও…
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় ছোট্ট একটি দ্বীপের নাম নিঝুম দ্বীপ। বঙ্গোপসাগরের কোলে উত্তর ও…
December 21, 2018

সিংহল দ্বীপএর গপ্পো ( পর্ব #২) # Sri Lanka হাতীদের এতিমখানা ,চিড়িয়া খানা দর্শন শেষ করে আবার ও শুরু হল পথচলা ।অবশ্য গাড়িতে উঠার আগে স্যুভেনির শপ গুলো ঢুঁ মারতে ভুলি নাই ,ম্যাগনেট ছাড়া আর কিছুই কেনা হয় নি । ক্ষুধা লেগেছিল মোটামুটি ভালই ,কিন্তু যুতসই কোন খাবার দোকান পাচ্ছিলাম না । আকাশ টাও আজব…

সিংহল দ্বীপএর গপ্পো ( পর্ব #২)
# Sri Lanka

হাতীদের এতিমখানা ,চিড়িয়া খানা দর্শন শেষ করে আবার ও শুরু হল পথচলা ।অবশ্য গাড়িতে উঠার আগে স্যুভেনির শপ গুলো ঢুঁ মারতে ভুলি নাই ,ম্যাগনেট ছাড়া আর কিছুই কেনা হয় নি । ক্ষুধা লেগেছিল মোটামুটি ভালই ,কিন্তু যুতসই কোন খাবার দোকান পাচ্ছিলাম না । আকাশ টাও আজব এই মেঘলা তো এই রোদেলা । আমাদের গন্তব্য ডাম্বুলা কেভ । বেশ খানিকটা চলার পর একটা কফি শপ নেমে কফি আর হাবিজাবি খেয়ে পেট ভরালাম। ডাম্বুলা কেভ এ পৌঁছতে পৌঁছতে বিকেল ,দ্রুত কমে আসছে দিনের আলো । আমরা নেমেই উঠতে শুরু করলাম , প্রথম ধাপ উঠার পর টিকেট কাউন্টার । এখানেও আলাপ হল আরেক লেডির সাথে ,হাটুর ব্যাথায় কাতর তাই মন্দিরে উঠছেন না ।উনি দক্ষিন ভারতীয় ,রিটায়ার্ড বায়ু সেনার বউ।

ডাম্বুলা কেভ টেম্পল যা কিনা গোল্ডেন টেম্পল অফ ডাম্বুলা নামেও পরিচিত ,জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ । মোট পাঁচটি কেভ বা গুহায় ছড়িয়ে আছে গৌতম বুদ্ধার মূর্তি , শ্রীলংকার রাজার মূর্তি আর কিছু দেব দেবীর মূর্তি । দূরে দেখা যাচ্ছে সিগিরিয়া পাথুরে দুর্গ । যখন নেমে এলাম তখন মেঘলা আকাশের কারনে আলো বেশ কম ,আমরা সোজা এসে থামলাম আমাদের রিসোর্ট ফ্রেসকো ওয়াটার ভিলা ,সিগিরিয়াতে । সত্যি বলতে কি রিসোর্ট এর পরিবেশ আর সৌন্দর্য দেখে ভুলে গেলাম সারাদিনের ক্লান্তি। ঝটপট ফ্রেশ হয়ে চলে গেলাম বুফেতে ।
পরদিন নাস্তা খেয়ে ব্যাগ বোচকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ,ক্যান্ডি যাব আজ তবে তার আগে যাব সিগিরিয়া রক দুর্গ তে । দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল পাহাড় চূড়া। মনে মনে ভাবলাম সর্বনাশ !! কেমনে যাব অত উঁচুতে ? গাড়ি এসে থামল প্রধান গেটে ,ড্রাইভার কাম গাইড জ্ঞান পেরেরা ও আমাদের সঙ্গী হল। আমরা নামতেই অনেক লোকাল গাইড আর অটো ওয়ালা আমাদের ঘিরে ধরল ,অটো চালক রা বলছিল অত উচুতে যদি না উঠতে চাও তবে চল আমরা পুরো এলাকা অটোতে ঘুরিয়ে দেখাব ।কনফিউজড হয়ে গেলাম ,তারপরও সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা হাইকিং করতে চাই। এখানে দু ধরনের টিকেট পাওয়া যায়।হাফ আর ফুল । জেসমিন আপা হাফ আর আমরা দুই ভাইবোন ফুল টিকেট নেলাম সাথে লোকাল গাইড ।

মন্দির আর রাজার বাড়ি কেন যে পাহাড় চূড়ায় থাকে আমি বুঝি না । সিগিরিয়া পাথুরে দুর্গ ও জাতি সঙ্ঘের বিশ্ব ঐতিহ্য এর অন্তর্ভুক্ত । সিংহলিরা একে সিংহ গিরিও বলে। আমি গাইড কে বললাম যে লায়ন্স এর থাবা আমি দেখতে চাই । শ খানেক ধাপ পেরোনোর পর আপা থামলেন ,উনাকে বসিয়ে রেখে আমরা চললাম ।

পাথর কাটা সিড়ি আর বড় বড় বোল্ডার এর মাঝ দিয়ে যেতে যেতে গাইড শোনালেন রাজা ক্যাশপ এর কাহিনী । শ চারেক সিড়ি ওঠার পর একটু খানি রেস্ট ,প্রচুর বাতাস আর গাছপালায় ঘেরা এই জায়গা তাই এনার্জি বেশ দ্রুতই ফিরে আসে। এরপর নয়শ তে গিয়ে মনে হল আমি আর পারব না । গাইড বার বার আমাকে সিংহ এর থাবার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল । প্রায় মিনিট পনের ও বিশ্রাম এর পর আবার চলতে শুরু করলাম । এখানের বিশেষ বৈশিষ্ট ফ্রেসকো পেইন্টিং । দেয়ালে অনেক ছবি ,বেশির ভাগ ই মেয়েদের। এই রাজার রানী ছিলেন একজন ই কিন্তু তার উপপত্নি ছিল পাচ শতাধিক !!! তার মানে গড়ে একজন এর সাথে বছরে একবারও দেখা হত না । অনেকটা হারেম এর মতই ,ওখান থেকে নেমে আবার সিড়ি বেয়ে আর পাথরের গা বেয়ে তৈরি স্পাইরাল সিড়ি পেরিয়ে পৌছালাম সিংহ এর থাবার কাছে। এখানেই আছে মিরর দেয়াল ,চলার পথে রাজা মশাই এখানে তার চেহারা দেখতেন ।এই জায়গাটা যথেষ্ট খোলামেলা আর পানির ব্যাবস্থা আছে ,যে যার মত পানি পান করছে বোতলে ভরছে ।ম্যালাখন বিশ্রাম নিয়ে ওপরে উঠলাম রাজার প্রাসাদে। ব্যাটা মানুষের ঘাড়ে চড়ে ওঠা নামা করত এখান থেকে ।

এবার নামার পালা পথ টা ভিন্ন আর সহজ ,জীবনের সব ক্ষেত্রেই আরোহনের চেয়ে অবরোহন টা সোজা। পায়ের দিকে তাকালাম দেখি পা লাল হয়ে গেছে ,কষ্ট হলেও অভিজ্ঞতাটা দারুন। এরপর গাড়িতে যেতে যেতে ডাব ,কলা আর কুড়মুড়ে ভক্ষন শেষে গেলাম মশলার বাগানে । নানারকম মশলার গাছ পালায় ভর্তি আর সাথে মশলা চা ফ্রি। চা খেয়ে মশলা আর চা কিনে ধরলাম ক্যান্ডির পথ। পথে থেমে খেলাম চিড়ার পোলাও আর মুরগী ,খাবার যে নারিকেল তেলে রাধা তা টের ই পায়নি। এদিকে বৃষ্টি শুরু গেল তাই দুইটা বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে ছবি তুলে চলে গেলাম সোজা হোটেলে ।

## পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকুন 🙂
This attachment may have been removed or the person who shared it may not have permission to share it with you.