parallax background
সাজেক ঘুরে আসা
Mohammad Omar Farook edited a doc in the group: Travelers of Bangladesh (ToB)
May 19, 2014
ঢাকা-ভুটান-দার্জিলিং-ঢাকা By road- Tour
ঢাকা-ভুটান-দার্জিলিং-ঢাকা By road- Tour
June 14, 2017

 

সবার অনেক ব্যস্ত সিডিউলের মাঝে একটু প্রান ভরে নিশ্বাস নিতে ঘুরে এলাম পাহাড়ের কোলে, মেঘের বাড়ি। সমুদ্র আর পাহাড়ের মাঝে পাহাড় আর ঝর্ণার প্রতি বরাবরই ভালবাসাটা বেশি। সাজেক তাই আমার মত পাহাড় প্রেমিদের জন্য পারফেক্ট স্থান। গ্রুপ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি তাই আমাদের ঘুরাঘুরির গল্পটা লিখতে ইচ্ছা হল এখানে। 
আমাদের ৯ বন্ধুর যাত্রা শুরু হয় ৯ নভেম্বর শুক্রবার রাত ১১ঃ২০ এর বাসে শান্তি পরিবহনে৷ বারবার চেয়েছি আগে আগে টিকিট কাটবো যাতে আগের বার বান্দরবানের মত পিছনে বসে ঝাকুনি খাওয়া না লাগে 😔৷ কিন্তু শেষমেষ তা আর হল না, একদম পিছনে সারিতেই জায়গা হল আমাদের নয় জনের। তারপর পাহাড়ের আঁকাবাকা রাস্তায় ঝাকি খেয়ে খেয়ে দীঘিনালা পৌছালাম ৭ টার দিকে। আগে থেকে চান্দের গাড়িতে কথা বলা ছিল, চান্দের গাড়ির রহিম ভাই আমাদের রিসিভ করলেন তার সবুজ গাড়িতে 😍। রহিম ভাইয়ের আমাদের ড্রাইভার হবার কথা ছিল না, আমরা মূলত কথা বলেছিলাম শিবু দাদার সাথে, শিবুদা খুবই বন্ধুসুলভ জেনেই তার সাথে আমরা যোগাযোগ করি, কিন্তু দাদার ট্রিপ থাকায় দাদা তার নিজের লোক রহিম ভাইকে আমাদের ঠিক করে দেন। সাজেকে যাবার পর শিবুদার সাথে দেখা হয়, রহিম ভাই এবং শিবুদা দুইজনকেই অনেক বেশি ভাল লেগেছে আমাদের। 😍
তাদের আন্তরিকতা, ব্যবহার, আর আতিথেয়তার আমরা মুগ্ধ 😍। যাইহোক, সকালে দীঘিনালা নামার পর রহিম ভাই আমাদের নাস্তার দোকানে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে যাই হাজাছড়া ঝর্ণা দেখতে, হাজাছড়া হয়ে আর্মি ক্যাম্প থেকে এন্ট্রি করিয়ে ১০ টার দিকে সাজেক রওনা হই।

 

 
বাসের টিকিটে দেরি হলেও কটেজটা যথা সময়ে বুকিং করেছিলাম, যার জন্য মেঘপুঞ্জির রোদেলা আর পূর্বাশা কটেজ দুটো পেয়ে যাই আমরা। পুরা সাজেক ঘুরে বাহ্যিক সৌন্দর্য, মেঘ আর আকাশ দেখার জন্য মেঘপুঞ্জিকে রিসোর্ট হিসাবে সাজেকের অন্যতম সেরা বলা যায়। যদিও তাদের রুমের ভিতরটা খুবই অগোছালো আর অপরিকল্পিত লেগেছে। সাজেক নেমে সারারাতে জার্নির যে ক্লান্তিটা লেগেছিল রিসোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক নিমেষে তা চলে গেল যেন। আমরা সাজেকের কমলক ঝর্ণায় গোসলের প্লান করেছিলাম কিন্তু শিবুদা জানালো যে ঝর্ণায় এখন পানি নেই তাই ২/৩ ঘন্টার ট্রেইলে যেয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরতে হবে বলে প্লান বাদ দিলাম। এরপর ফ্রেশ হয়ে খেতে গেলাম। শিবুদার পরিচিত মনটানায় যা খেলাম তা সত্যিই মনটানার মত। মাত্র ২০০ টাকায় ভাত, ডাল, আলুভর্তা, শুটকি, বাশের থোড়, কুমড়ো আর পেপের তরকারি, আর সবচেয়ে স্পেশাল ব্যাম্বু চিকেন সবকিছুই আনলিমিটেড বলা যায়, যতক্ষণ পেট না ভরে। এরপর রেস্ট৷ নিয়ে বিকালে গেলাম কংলাক পাহাড়ে, পাহাড়ে অল্প ট্রেকিং আছে, পাহাড়ে চায়ের সাথে সূর্যাস্ত দেখে ফিরলাম হ্যালিপ্যাডে, হ্যালিপ্যাডে সময় কাটিয়ে তারপর ঘুরে ঘুরে দেখালেন রাতের তারা ভরা সাজেক। রাতে আমাদের বারবিকিউ অর্ডার করা ছিল। ঘুরে ফুরে রাতের খাবার খেয়ে রিসোর্টের বারান্দায় বসলো আড্ডা তারা ভরা আকাশের নিচে। 
পরদিন ঘুম যখন ভাঙলো তখন রিসোর্টের রুম।থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম মেঘের সাথে পাহাড় আর আকাশের একাকার হয়ে যাওয়া। আর সেই সাথে সূর্যোদয় হলো মেঘের বুক চিড়ে পাহাড়ের চূড়ায়। 
সকালে আমাদের রিসোর্টের আশাপাশেই ঘুরাফিরা করলাম, দোলনাটায় বসে মেঘ দেখাটাও চোখ জুড়িয়ে দেয়। তারপর ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পরলাম নাস্তা করে এবার সাজেক ত্যাগের পালা। সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি শহর রেখে গেলাম আলুটিলা গুহা, তারপর রিসং ঝর্ণায় গোসল করে পানিছড়ি বৌদ্ধবিহার। এখানকার বৌদ্ধমূর্তিটা নাকি এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম। তারপর জেলাপরিষদ পার্ক ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। রিসং ঝর্ণার উপর যেখান থেকে পানি আসে চাইলে সেখানে উঠতে পারেন খাড়া পাহাড়টা বেয়ে, আমাদের দিনের অনেকটা সময় ঝর্নার উপরের ঝিরিতে পানিতে কেটে গেছে। তাই দুপুরে খাবার সময় হয়ে ওঠে নাই। সন্ধ্যায় আমরা যাই সিস্টেম হোটেলে সেখানেও মজার সব খাবার খাই ১৮০ টাকায়। ভাত ডাল আনলিমিটেড, সাথে মাশরুম, শুটকি,লাউয়ের তরকারি আর হাঁস অথবা দেশি মুরগী যার যেটা ভাল লাগে। খাবার শেষে কোর্ট রোডে কেটাকাটা সেরে রাত ৯ টার বাসে অনেক স্মৃতির ডালি নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেই। 
খরচ নামা… সব খরচ পুরাপুরি মনে থাকেনা তবুও আমি কিছু ধারনা দিচ্ছি যাতে সবাই অনুমান করতে পারেন। 
ঢাকা খাগড়াছড়ি ঢাকা টিকিট.. ৫৮০ + ৫২০
কটেজ(মেঘপুঞ্জি) দুইটা, লোক ৯ জন… ৬০০০
সবুজ চান্দের গাড়িভাড়া দীঘিনালা থেকে (সিজনে কম বেশি হয়) …৬৫০০ + টিপস
সাজেকে তিনবার খাওয়া….৪৭০ 
দীঘিনালায় নাস্তা + খাগড়াছড়ি সিস্টেম হোটেলে খাওয়া…. ৩৫ + ১৮০ 
এছাড়াও পানি, কফি চা, অন্যান্য খাবার, টিকিট আর পার্কিং এইসব মিলে আরো ২০০-৪০০ বা তার বেশি হতে পারে।

কিছু জিনিস বলতে চাই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে
— চান্দের গাড়ি আর রিসোর্ট আগে বুকিং করে যাওয়া ভাল, এতে করে সময় বাঁচে। 
— পাহাড়ের কলা, পেঁপে, আখ, কমলা অবশ্যই খাবেন। সব গুলোই প্রচন্ড মজার। 
— লোক বেশি হলে খরচ কমে তাই খরচ কমাতে চাইলে ৮-১২ জনের গ্রুপ পার্ফেক্ট। 
— টাকা কিছু বেশি লাগলেও ভাল রিসোর্ট নেওয়া ভাল এতে ভিউ ভাল পাওয়া যায়। 
— লোক বেশি হলে পানি ঢাকা থেকে ৫ লিটারের বোতল কয়েকটা নিয়ে যাওয়া ভাল। 
— পাহাড়ি মেয়েদের তৈরি কাঠির কফি মেকারের কফি খেতে পারেন, দাম মাত্র ৩০ টাকা। 
— রিসাং ঝর্নায় গোসল করবেন অবশ্যই, ভিজা কাপড় চেঞ্জ করার ব্যবস্থা আছে। 
— দয়া করে ময়লা ফেলবেন না যেখানে সেখানে। প্রকৃতি অনেক সুন্দর তাকে সুন্দর থাকতে দিন। 
ছবি কৃতজ্ঞতা : বন্ধু Rafsan Hasan 😍

 

লেখকঃ 

Abanti Kundu