ঘুরে আসতে পারেন সীতাকুন্ড থেকে
টাংকির চর
টাংকির চর
November 14, 2018
সুনামগঞ্জ ভ্রমনকথা
November 14, 2018

হাতে ২ দিন সময় থাকলে আর খুব কম খরচে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন সীতাকুন্ড থেকে

প্রথম দিন-চন্দ্রনাথ পাহাড় এবং বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

দ্বিতীয় দিন-খইয়াছড়া ঝর্ণা,মহামায়া লেক।

ভ্রমণ এর শুরুটা যতটা আনন্দদায়ক ছিল শেষটাও ঠিক তেমন ই আনন্দ দিয়ে শেষ হয়েছে।

আমাদের যাত্রা টা শুরু হইছিল কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে। রাত ১০.৩০ এর ট্রেন স্টেশন থেকে ছেড়েছিল ১০.৪০ এ। আমরা কিছুটা ভুল করেছিলাম ট্রেন এ উঠতে কারন আমরা পিছনের দিকে দাঁড়াইয়া ছিলাম যার কারণে আমরা দৌড়ে গিয়েও সিট পাই নাই তারপরও আমরা সবাই মিলে এক জায়গায় বসে বসে মজা করতে করতে যাই। সকাল ৭ টায় আমরা নামি সীতাকুণ্ড স্টেশন এ। স্টেশন থেকে আমরা সামনের দিকে হেটে হেটে ৮-১০ মিনিট হাটি। অনেক গুলা হোটেল দেখি কিন্তু একসাথে ৩ দিন বন্ধ থাকায় আমরা কোথাও সিট পাই না। অবশেষে সৌদিয়া হোটেল এ সিট পাই। অনেক সুন্দর ।এক পাশে ঢাকা -চিটাগং হাইওয়ে অন্যপাশে চন্দ্রনাথ পাহাড় দেখা যায় হোটেল এ কিছুক্ষন রেস্ট নিয়ে সকালের নাস্তা করি হোটেল এর নিছ থেকেই। তারপর আমরা রওনা দেই চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। আমরা ৬ জন মিলে মাত্র ২ লিটার পানি(যা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত নেওয়া হয় নাই) বিস্কুট,গ্লুকোজ নিয়েছিলাম। তারপর পাহাড়ে উঠতে উঠতে আমাদের আরও ২.৩০ লিটার পানি কিনতে হয় অনেক বেশি দাম দিয়ে আর উপরে যত উঠা হয় ততো বেশি পানি পিপাসা লাগে। আর উপর দিকে উঠতে কস্ট হইলেও ট্রেক করে যত উপরে উঠছি ততো বেশি উদ্দীপনা কাজ করছে একসময় আমরা পৌছায়ে যাই উপরে। আমাদের উঠতে যত কস্ট হয়েছে তা এক নিমিশেয় দূর হয়ে যায় এত সুন্দর প্রকৃতি দেখে। কিছুক্ষন উপরে থেকে আমরা নেমে আসি সিড়ি দিয়ে 
পাহাড় থেকে নেমে চলে আসি ১ টার মধ্যে। তারপর পৌরসভায় এসে দুপুরের লাঞ্চ করি। লাঞ্চ শেষ করে আবার হোটেলে যেয়ে কিছুক্ষন রেস্ট করে বিকাল ৪ টায় বের হই বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত দেখার জন্য। বাঁশবাড়িয়ায় সুর্যাস্ত উপভোগ করে সন্ধ্যার পর পর হাল্কা নাস্তা করে চলে আসি একবারে হোটেল এ।

পরের দিন সকাল ৯ টায় হোটেল থেকে একবারে ব্যাগ নিয়ে রওনা দেই খৈয়াছড়ার উদ্দেশ্যে। খৈয়াছড়া যেয়ে শাওন হোটেলে ব্যাগ রেখে, খাবার অর্ডার করে হাটতে থাকি ঝর্ণার দিকে। একে একে দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ১ম ঝর্ণায় পৌছাই। ১ম ঝর্নায় পৌছানোর পর আমরা চিন্তা করি আরো উপরের দিকে উঠব। কিন্তু সেই রাস্তা গুলো মোটেও সহজ ছিল না। যত উপরের দিকে উঠতে গেছি ততো বেশি রিস্কি ছিল। কিন্তু আমরা একে একে সবগুলা ঝর্ণা দেখেই সারছি।ঝর্ণায় এখন পানি কম কিন্তু সৌন্দর্য টা কম না। উপরের দিকে একসাথে ৪ টা ঝর্ণা দেখে মনে আর কোন কিছু অপূর্ণ থাকে না। এবার নামার পালা। আমার কাছে মনে হইছে ঝর্ণায় ওঠা যত টা রিস্কি ছিল তার চেয়েও নামা টা আর ও বেশি রিস্কি ছিল। কারণ ভুলবশত একবার পা এদিক ওদিক হইলেই শেষ। কিন্তু আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে ভালোই ভালোই সবাই নেমে শাওন রেস্তোরায় চলে এসে খাওয়া দাওয়া করি। শাওন রেস্তোরার সামছুদ্দিন ভাই খুবই আন্তরিক মানুষ। আর ঘোরায়া পরিবেশে রান্না করে এজন্য রান্নাও অনেক সুস্বাদু হয়।

তারপর আমরা চলে যাই মহামায়া লেক এ কায়াক করতে। পরন্ত বিকেলে কায়াক করে বিকাল টা উপভোগ করে সন্ধ্যায় লেকেই গোসল করে চলে যাই মিরসরাই বাস স্টেন্ডে। যেয়ে বাসের টিকেট করে ঢাকা চলে আসি

খরচ:
ঢাকা -সিতাকুন্ড মেইল ট্রেন ভাড়া সম্ভবত ৯০ টাকা পার জন (আমরা টিকেট কেটেছিলাম না)
হোটেল সৌদায়ায় একদিন ৬জন এর একটা রুম -১৪০০ টাকা হোটেল থেকে সি এন জি ভাড়া পার জন -১৫ টাকা করে। কিন্তু আমরা অনেক দামাদামি করে ৬জন ৬০ টাকায় যাই
পাহাড়ে উঠতে প্রথমেই ১ লিটার পানি কিনি ৩০ টাকায় তার উপরে যেয়ে কিনি ৪০ টাকায় এবং একেবারে উপরে যেয়ে কিনি ৫০ টাকায়
পাহাড় থেকে হোটেল আসি ৬ জন ৯০ টাকায়
দুপুরের খাওয়া -৩৬০ টাকা (মুরগি ৫০ টাকা করে ৪ প্লেট নিয়েছিলাম)

হোটেল থেকে বাশবাড়িয়া সমুদ্রে সি এন জি ২০০ টাকায় ভাড়া করে নিয়ে যাই
আর আসার সময় ডাইরেক্ট আসে না। তাই ভেংগে আস্তে হয়। সমুদ্র থেকে বাশবাড়িয়া বাজার ২০ টাকা পার জন। বাশবাড়িয়া থেকে পৌরসভায় লেগুনা ১৫ টাকা পার জন

রাতের খাবার ৬ জন -৩০০টাকা (শেয়ার করে খাই)

পরের দিন পৌরসভা থেকে সি এন জি তে খৈয়াছড়ার আগে হাইওয়ে তে লেগুনায় ১৫ টাকা করে পার জন। হাইওয়ে থেকে খৈয়াছড়া ১৫ টাকা করে। শাওন রেস্তোরায় খাওয়া ৮০ টাকা করে প্যাকজ এ ৪৮০ টাকা (আনলিমিটেড ভাত,ডাল,আলু ভর্তা,মূরগির মাংস,পানি) 
খৈয়াছড়া থেকে হাইওয়ে ১৫ টাকা করে। হাইওয়ে থেকে মহামায়া ১৫ টাকা করে লেগুনায়। লেগুনা থেকে আমরা ১৫ মিনিট হেটে হেটে মহামায়া লেক এ গেছিলাম
কায়াক ভাড়া স্টুডেন্ট -২০০ টাকা (শুক্রবার ২৫০ টাকা)
আসার সময় ১৫ টাকা করে মহামায়া এসে অখান থেকে লেগুনায় মিরসরাই এ ১০ টাকা।
রাতের খাবার -২১০ টাকা (২টা করে রুটি আরর ডাল) তারপর শ্যামলী বাসে ৩২০ টাকা করে ঢাকা আসি

সবমিলিয়ে আমাদের একেকজনের খরচ হয়েছিল ১৩২০ টাকা করে

বি.দ্র. :কোথাও ময়লা আবর্জনা ফেলে আসবেন না

লেখকঃ 

Tanvir Hasan