*** ঘুরে আসতে পারেন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান একদিনেই *** সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের অবস্থান হবিগঞ্জ…

:: কুয়াকাটা ট্যুরের গল্প :: এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক জায়গাই ঘুড়ে এসেছি। লিখবো লিখবো…
:: কুয়াকাটা ট্যুরের গল্প :: এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অনেক জায়গাই ঘুড়ে এসেছি। লিখবো লিখবো…
December 19, 2017
নীল জলের লালাখাল️ লালাখাল, সিলেট। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না পানি…
নীল জলের লালাখাল️ লালাখাল, সিলেট। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না পানি…
April 10, 2018
*** ঘুরে আসতে পারেন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান একদিনেই *** সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের অবস্থান হবিগঞ্জ…

*** ঘুরে আসতে পারেন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান একদিনেই ***
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের অবস্থান হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থিত । ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের বলে ২৪৩ হেক্টর এলাকা নিয়ে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে “সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান” প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই উদ্যানে সাতটি পাহাড়ি ছড়া আছে, সেই থেকে এর নামকরণ সাতছড়ি (অর্থ: সাতটি ছড়াবিশিষ্ট) উল্লেখ্য সাতছড়ির আগের নাম ছিলো “রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট” ।
এটি এমন একটা যায়গা যেখানে গহীন বনের ছোঁয়া একবিন্দু হলেও পাওয়া যাবে । প্রথমবার গিয়ে থাকলে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি এই যায়গাটি আপনার কাছে যেমন রোমাঞ্চকর লাগবে, পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমী হলে অন্যরকম আনন্দ অনুভূতি হবে ।
আসুন এবার আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি – প্রথমত আমরা একটা গ্রুপ রিসার্ভ বাস নিয়ে যাই । অপেক্ষা করুন, আপনার বাস রিসার্ভ নেয়া লাগবে না , কিভাবে যাবেন কোত্থেকে যাবেন সব বলে দিবো । সাতছড়ি পৌছাতে ৩.৫ ঘন্টার মত সময় লাগে । হাইওয়ে টুকু ভালো না লাগলেও আপনি যেই সাতছড়ি যাওয়ার রাস্তায় প্রবেশ করবেন তখন থেকে শুরু হবে আসল ভ্রমন ।গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রথমে পৌছাবেন তেলিয়াপাড়া । রেললাইন ক্রস হবার পর প্রায় ৪/৫ কিলোমিটার ভিতরে যাওয়া লাগে বনের মূল ফটক এ যাওয়ার জন্য । বাকী পথটা আপনি টেরই পাবেন না, আঁকাবাঁকা রাস্তা আর দু’পাশে চা বাগান আপনাকে মুগ্ধ করবে নিশ্চিত । সাতছড়ি যাওয়ার পর আপনি টং এর মত বানানো দোকানে দু মুঠ ঝালমুড়ি খেয়ে নিতে পারেন । আমি ধারনা করে গিয়েছিলাম বনে ঢুকলে হাটতে হাটতে ক্ষুদা লাগবে, আর সকালের নাস্তাও তেমন পেট ভরেনি,তাই নিজেই ৪ প্লেট ঝালমুড়ি খেয়ে ফেলি । এরকম মূল ফটক থেকে টিকেট নিয়ে প্রবেশ করি হারিয়ে যেতে 😛 । পর্যটকদের জন্য নিসর্গ কর্মসূচীর আওতায় বনের মাঝে ৩টি ট্রেইল তৈরি করে দেয়া হয়েছে।
# আধা ঘন্টার ট্রেইল: ১ কি.মি দৈর্ঘ্যের এই ট্রেইল ধরে বনের মধ্যে অবস্হিত একমাত্র গ্রাম টিপরা পাড়াতে যাওয়া যায় ।
# এক ঘন্টার ট্রেইল: বৈচিত্রময় বনের বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী/উদ্ভিদ দেখতে চাইলে এই ট্রেইল ধরে এগিয়ে যাওয়া উচিত ( এটাতেই গিয়েছিলাম, কিন্তু রাস্তা বিভিন্ন দিকে মোড় নেয়ায় হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে আর ভিতরে যাইনি ,পরে দেখি ১ ঘন্টার ট্রেইলে ঘুরেফিরে ২০ মিনিটেই সড়কে চলে আসি -_- )
# তিন ঘন্টার ট্রেইল: ৬ কি.মি দৈর্ঘ্যের এই ট্রেইল ধরে এগুলে পেয়ে যাবেন আগরের বন।বলা হয় পাখি প্রেমীদের জন্য এই ট্রেইল আদর্শ।
আমরা বন থেকে বের হয়ে রাস্তায় শুয়ে-বসে ফটোসেশন করে বন বিভাগের অফিস এরিয়ায় এসে খোলা যায়গায় একত্র হয়ে আগে থেকে অর্ডারকৃত দুপুরের খাবার (পানশী হাইওয়ে হোটেল,৪০ জনের ১২০ টাকা করে পড়ে ) গ্রহন করি । এবং সেখান থেকে যেদিক দিয়ে এসেছি তার বিপরীতমুখী রাস্তা ধরে শায়েস্তাগঞ্জ দিয়ে বের হই । সেই পথেও দেখতে পাই অসম্ভব সুন্দর চা বাগানের সারি ।চা-বাগানে নেমেও ভালোই ফটোসেশন চলে । সেখান থেকে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ঢাকা পৌছাতে আমাদের ৪.৫ ঘন্টা সময় লাগে । রাত ১১ টার মধ্যে সবাই যার যার বাসায় ।
** আসুন বলি আপনারা যদি যেতে চান তাহলে কিভাবে যাবেন –
ঢাকা থেকে সিলেটগামী যে কোন বাসে উঠে পড়ুন, অবশ্যই ফার্স্ট ট্রিপ ধরার চেস্টা করবেন,কারন আপনি যত আগে পৌছাবেন,তত ওখানে সময় দিতে পারবেন । ঢাকা-সিলেটগামী বাসগুলো হচ্ছে লন্ডন,গ্রীন লাইন,হানিফ,শ্যামলী,এনা,মামুন,মিতালী,দিগন্ত,আল মোবারাকা, অগ্রদূত, মডার্ন, বিসমিল্লাহ্‌ । ভাড়া ৪৭০-১২০০ টাকা । আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোন বাসে চলে যান । কিন্তু আমি যেহেতু গরিব ট্রাভেলার অতএব আমি সস্তাটাই খুজবো 😛
*** আসুন সস্তার রুট বলি –
সায়দাবাদ থেকে মামুন/মিতালী/আল-মোবারাকা তে চড়ে বসুন, মামুন/মিতালী/অগ্রদূত লোকাল বাস,ভাড়া ২০০ টাকার বেশী হবে না । দিগন্ত হবিগঞ্জের বাস,ওটায় গেলে ৩০০ টাকা দেয়া লাগবে । দিগন্ত এসি আছে,৪০০ টাকা ভাড়া ।বাসে উঠে সুপারভাইজার/হেলপার কে বলে রাখবেন যেন মাধবপুরের পর তেলিয়াপাড়া বিশ্বরোড (স্থানীয়ভাবে তেইল্লাপাড়া) মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে নামিয়ে দেয়। নেমে সেখান থেকে ডানে সিএনজি কিংবা ম্যাক্সিতে সাতছড়ি । ফেরত আসার সময়ও একইভাবে সিএনজি/অটো যেটা পান সেটায় করে হাইওয়ে তে আসবেন । সেখান থেকে ঢাকাগামী যেকোন বাসে উঠে পড়ুন ।
অনেকে যেই রুটটার কথা বলে সেটি হচ্ছে তেলিয়াপাড়া বিশ্বরোড না নেমে সেখান থেকে আরো দূরে শায়েস্তাগঞ্জ নেমে সিএনজি তে চুনারুঘাট, আবার এরপর সেখান থেকে সাতছড়ি । আপনি ম্যাপ ওপেন করলে দেখতে পাবেন আমি যেই রাস্তাটা বলেছি এটা আপনার জন্যে শর্টকাট আর যথেস্ট সময় বাচাবে । যদি চান তাহলে ঢাকায় ফেরত আসার সময় চুনারুঘাট-শায়েস্তাগঞ্জ রুট ফলো করতে পারেন,সেখান থেকেও ঢাকায় আসার বাস পাবেন ।
* ট্রেনে গেলে – সকাল ৬.৩০ টার সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেসের টিকেট নিয়ে রাখুন ( কমপক্ষে ৭ দিন আগেই,নাহলে সিলেটের টিকেট নেয়া লাগবে,ভাড়াও বেশী) শায়েস্তাগঞ্জ এর টিকেট নিন ( ২১৫ টাকা ভাড়া শোভন চেয়ার) । ট্রেন থেকে নেমে শায়েস্তাগঞ্জ চৌরাস্তা – চুনারুঘাট –সাতছড়ি ।
আসার টাইমে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ এসে ঢাকাগামী ট্রেন ধরতে পারেন,যদি এরকম প্ল্যান থাকে তাহলে রিটার্ন টিকেটও ঢাকা থেকে সংগ্রহ করবেন নাহলে দাঁড়িয়ে আসা লাগবে , শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৫.৫৭ তে সেই পারাবত এক্সপ্রেসই ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় । রাত ১০ টার মধ্যে পৌছে যাবে ।
থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ঃ
সাতছড়ি উদ্যানের আশেপাশে কোন খাবার হোটেল নেই, এমনিতে মুদি দোকান আছে । কাজেই সাথে করে হালকা খাবার রাখা নিয়ে যাওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ । ওয়াশরুম ব্যবহার করতে পারবেন সেখানে ।থাকার জন্যে একটা ডরমিটরী দেখেছি, আর আপনি চাইলে সাতছড়িতে ক্যাম্পিং ও করতে পারবেন, কিন্তু কি উপায়ে থাকা/ক্যাম্পিং করা যাবে তার জন্যে রেঞ্জ অফিসারের সাথে কথা বলতে পারিনি দুপুর হয়ে যাওয়ায় , কিন্তু আপনি চাইলে থাকতে পারবেন যার জন্যে তার নিকট আবেদন করতে হবে ।
***** সতর্ক থাকবেন যে বিষয়ে –
১. সাতছড়ি উদ্যান এ যাওয়া মাত্রই আপনি মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন । রবি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় তাও ওই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পর্যন্তই ।অতএব প্রিয়জনকে জানাতে ভুলবেন না আপনি কিছু সময়ের জন্যে নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন ।
২. বনে প্রবেশের আগে আপনাকে গাইড না খুঁজে পেলেও আপনি লাগলে কাউন্টারে জিজ্ঞেস করে একজন গাইড খুঁজে নিন যদি বনের গহীনে প্রবেশ করতে চান । ওইসময় আশেপাশে গাইড ছিল না বলে আমাদের ঘোরাঘুরিতে তৃপ্তি পাইনি । সাথে গাইড থাকলে ভিতরে ভয় লাগবে না আর রাস্তা হারানোর চান্স নেই। গাইড একজন ২/৪০০ টাকায় পেয়ে যাবেন ।
৩. সবথেকে গুরুত্বপূর্ন যে বিষয়টা সেটি হচ্ছে বনের মধ্যে / বন্যপ্রানী দেখলে হাউকাউ করবেন না, আপনি নিশ্চয় কারো বাসায় বেড়াতে গেলে ওই বাসায় গিয়ে হৈচৈ শুরু করে দেন না । সোজা কথা তাদেরকে উত্যক্ত করবেন না ।
৪. এত্ত সুন্দর পরিবেশে আপনার ফেলে দেয়া পলিথিন,বোতল,টিস্যু বা খাবারের প্যাকেট যাই ফেলেন না কেন,দৃষ্টিকটু দেখাবে । সেগুলো সাথে করে নিয়ে এসে একযায়গায় জড়ো করে রাখবেন যেহেতু ডাস্টবিনের অভাব ।
৫. ১ জন ২ জন না গিয়ে ৫/১০ জনের গ্রুপ নিয়ে যান । ভ্রমন আনন্দদায়ক ও স্মরনীয় হয়ে থাকবে ।
বাসভাড়া / ট্রেনভাড়া ( ৩০০+৩০০ / ২১৫+২১৫ ),খাবার ( ১৫০,টুকটাক নাস্তাসহ ধরলাম ), সিএনজিতে (২/৩০০), বনে প্রবেশ ২০ আর গাইডকে যা দিয়ে পারেন ।
বলা যেতেই পারে ৫/১০ জনের গ্রুপ গেলে ১০০০/১২০০ এর মধ্যে একদিনের একটা সুন্দর ট্যুর দেয়া যাবে ।
আমি পোস্ট লেখা শুরু করলে তা রচনা হয়ে যায় যার জন্যে দুঃখিত 😛